ত্বকের অস্বাভাবিক ও অনিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজনকে স্কিন ক্যান্সার বা ত্বকের ক্যান্সার বলা হয়। অতিরিক্ত সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি (UV rays) এবং দূষণের কারণে বিশ্বব্যাপী এই ক্যান্সারের প্রকোপ বাড়ছে। অন্যান্য ক্যান্সারের মতো স্কিন ক্যান্সারের ক্ষেত্রেও প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় করা গেলে এটি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য।
fitnition.com-এর আজকের আয়োজনে আমরা জানবো ত্বকের ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণগুলো কী কী। শরীরের কোনো তিল বা দাগ সাধারণ নাকি ক্যান্সারের সংকেত, তা বোঝার কিছু বৈজ্ঞানিক উপায় রয়েছে। চলুন, স্কিন ক্যান্সারের শীর্ষ ৫টি সতর্ক সংকেত বিস্তারিত জেনে নিই।
স্কিন ক্যান্সারের ৫টি প্রধান লক্ষণ
ত্বকের ক্যান্সারের প্রধানত তিনটি ধরন রয়েছে—মেলানোমা, বেসাল সেল কার্সিনোমা এবং স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা। ধরন অনুযায়ী লক্ষণ ভিন্ন হলেও সাধারণত নিচের লক্ষণগুলো সবচেয়ে বেশি দেখা যায়:
১. নতুন কোনো তিল বা আঁচিল দেখা দেওয়া
বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীরে দু-একটি নতুন তিল ওঠা স্বাভাবিক। তবে যদি হঠাৎ করে ত্বকে অস্বাভাবিক বড়, অমসৃণ বা ভিন্ন রঙের কোনো নতুন তিল বা আঁচিলের মতো কিছু দেখা দেয় এবং তা দ্রুত বড় হতে থাকে, তবে এটি মেলানোমা (সবচেয়ে বিপজ্জনক স্কিন ক্যান্সার) এর প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।
২. পুরনো তিলের আকার ও রঙে পরিবর্তন
আপনার শরীরে আগে থেকেই থাকা কোনো তিলের আকার, রঙ বা আকৃতিতে যদি হঠাৎ পরিবর্তন আসে, তবে সতর্ক হওয়া জরুরি। তিলটি যদি আগের চেয়ে মোটা হয়ে যায়, এর সীমানা অস্পষ্ট হয়ে যায় কিংবা একই তিলে কালো, বাদামী বা লাল রঙের মিশ্রণ দেখা যায়, তবে তা ক্যান্সারের সংকেত হতে পারে।
৩. ত্বকে এমন ক্ষত যা শুকাচ্ছে না
ত্বকে সাধারণ কোনো কাটা-ছেঁড়া বা ব্রণের ক্ষত সাধারণত এক বা দুই সপ্তাহের মধ্যে শুকিয়ে যায়। কিন্তু যদি ত্বকে এমন কোনো ঘা বা ক্ষত থাকে যা মাসের পর মাস শুকাচ্ছে না, শুকিয়ে গেলেও বারবার ফিরে আসছে এবং সেখান থেকে রস বা রক্ত বের হচ্ছে, তবে এটি বেসাল সেল কার্সিনোমার একটি বড় লক্ষণ।
৪. ত্বকে লালচে, খসখসে বা আঁশযুক্ত দাগ
ত্বকের কোনো অংশে যদি শুষ্ক, খসখসে, লালচে বা গোলাপি রঙের আঁশযুক্ত (Scaly) দাগ তৈরি হয় এবং সেখানে প্রায়ই চুলকানি বা জ্বালাপোড়া থাকে, তবে তা স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমার লক্ষণ হতে পারে। এটি সাধারণত রোদ লাগা স্থান যেমন—মুখ, কান, ঘাড় বা হাতে বেশি দেখা যায়।
৫. তিল বা দাগ থেকে রক্তপাত ও ব্যথা
সাধারণ তিল বা আঁচিলে কখনো ব্যথা বা চুলকানি থাকে না। কিন্তু যদি শরীরের কোনো দাগ, পিণ্ড বা তিলে হঠাৎ করে ব্যথা শুরু হয়, চুলকায় এবং সামান্য স্পর্শেই রক্তপাত হতে থাকে, তবে এক মুহূর্ত দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
তিল চেনার ‘ABCDE’ রুল (পার্থক্য)
কোন তিলটি সাধারণ আর কোনটি ক্যান্সারের লক্ষণ, তা সহজে বোঝার জন্য চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘ABCDE’ ফর্মুলা ব্যবহার করা হয়:
| রুল | ইংরেজি অর্থ | লক্ষণ (ক্যান্সারের ক্ষেত্রে) |
| A | Asymmetry (অসমতা) | তিলের দুই দিক দেখতে একরকম হয় না (অসম আকৃতি)। |
| B | Border (সীমানা) | তিলের সীমানা স্পষ্ট নয়, বরং খাঁজকাটা বা আঁকাবাঁকা থাকে। |
| C | Color (রঙ) | তিলের রঙ সব জায়গায় সমান থাকে না (কালো, লাল বা নীল ছোপ)। |
| D | Diameter (ব্যাস) | তিলের আকার পেন্সিলের রাবারের চেয়ে বড় (৬ মি.মি এর বেশি) হয়। |
| E | Evolving (পরিবর্তন) | তিলের আকার, আকৃতি বা রঙ খুব দ্রুত পরিবর্তন হতে থাকে। |
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQs)
১. স্কিন ক্যান্সার কি শুধু রোদ লাগা স্থানেই হয়?
উত্তর: না। স্কিন ক্যান্সার সাধারণত সূর্যের আলো সরাসরি পড়ে এমন স্থানে (মুখ, ঘাড়, হাত) বেশি হলেও, এটি শরীরের যেকোনো স্থানে হতে পারে। এমনকি হাতের তালু, পায়ের তলা এবং নখের নিচেও মেলানোমা হতে পারে।
২. স্কিন ক্যান্সার কি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য?
উত্তর: হ্যাঁ, যদি প্রাথমিক পর্যায়ে (স্টেজ ১ বা ২) স্কিন ক্যান্সার ধরা পড়ে, তবে ছোট একটি সার্জারির মাধ্যমে এটি সম্পূর্ণ নিরাময় করা সম্ভব। তবে অবহেলা করলে এটি শরীরের অন্যান্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
৩. কাদের স্কিন ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি থাকে?
উত্তর: যাদের ত্বকের রঙ ফর্সা, যারা দীর্ঘক্ষণ রোদে কাজ করেন, যাদের পরিবারে স্কিন ক্যান্সারের ইতিহাস রয়েছে এবং যাদের শরীরে অনেক বেশি তিল রয়েছে, তাদের এই ক্যান্সারের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
বিশেষ স্বাস্থ্য সতর্কতা: এই আর্টিকেলটি সাধারণ তথ্য ও সচেতনতার উদ্দেশ্যে তৈরি। স্কিন ক্যান্সারের লক্ষণগুলো অনেক সময় সাধারণ চর্মরোগ বা অ্যালার্জির মতো মনে হতে পারে। আপনার ত্বকের কোনো পরিবর্তন নিয়ে সন্দেহ হলে নিজে নিজে কোনো মলম বা ওষুধ ব্যবহার না করে দ্রুত একজন ডার্মাটোলজিস্ট (চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ) বা অনকোলজিস্টের পরামর্শ নিন।